
নিজস্ব প্রতিবেদক:
তিনি ছিলেন পতিত স্বৈরাচারের ঘনিষ্ঠ দোসর। অবশেষে রাজধানীর কারওয়ানবাজার থেকে সাংবাদিক মুন্নী সাহাকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে ঘিরে ধরে উত্তেজিত জনতা। এরপর পুলিশ এসে তাকে আটক করে প্রথমে তেজগাঁও থানায় এবং পরে মিন্টো রোডের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে যায়। শনিবার (৩০ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে তাকে আটক করা হয়।

তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোবারক হোসেন সাংবাদিকদের জানান- সাংবাদিক মুন্নী সাহা শনিবার রাত ১০টার দিকে জনতা টাওয়ারের (সফটওয়ার পার্ক) অফিস থেকে বের হন। এসময় স্থানীয় কয়েকশ’ লোক তাকে ঘিরে ধরেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। মুন্নী সাহাকে নিয়ে যাওয়ার সময় তার বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন শতাধিক মানুষ। উল্লেখ্য, মুন্নী সাহার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে উত্তেজিত জনতা মুন্নী সাহাকে ৫ মে শাপলা চত্ত্বরে হেফাজত ইসলাম, বিডিআর বিদ্রোহে তার ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় – উত্তেজিত জনতা মুন্নী সাহাকে ৫ মে শাপলা চত্ত্বরে হেফাজত ইসলাম, বিডিআর বিদ্রোহে তার ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন করেন
জানা গেছে-পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিমন্ত্রী বর্তমানে কারাগারে আটক জুনাইদ আহমদ পলকের কাছ থেকে জনতা টাওয়ারের অফিসটি দখল নেন। ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন এবং ভারতে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও জনতা টাওয়ারের অফিসটি ঠিকই দখলে রাখেন মুন্নী সাহা। মুন্নী সাহা বর্তমানে একটি অনলাইন পোর্টাল পরিচালনা করেন। তাকে আটকের পর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়।

উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে শিক্ষার্থী নাঈম হাওলাদার (১৭) নিহতের ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। গত ২২ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় ওই মামলা দায়ের করেন নিহত শিক্ষার্থীর বাবা মো. কামরুল ইসলাম। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং পুলিশ ও র্যাব কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়। পাশাপাশি সাতজন সাংবাদিককেও এ মামলায় আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে একজন মুন্নী সাহা। পতিত সরকারের দোসর মুন্নী সাহা অনলাইন পোর্টালে কাজ করার আগে এটিএন নিউজে কর্মরত ছিলেন।

এর আগে মুন্নী সাহার সব ধরনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে গত ৬ অক্টোবর ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
মুন্নী সাহাকে আটকের পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন-ভারতের পরামর্শে সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তার আটক ইস্যু নিজেই তৈরি করেছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। বর্তমান সাম্প্রদায়িক ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের জন্য এটি তার নতুন কিনা তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন আছে।



