

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর খিলক্ষেত নিকুঞ্জ এলাকায় নতুন এক প্রতারকের সন্ধান পাওয়া গেছে। জালিয়াতি করে অন্যের সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনায় পটু এই প্রতারকের নাম আকরাম হোসেন ওরফে জ্যাকি ওরফে রকি ওরফে জ্যাকি রকি। তার সঙ্গে আরও কিছু ভূমিদস্যু মিলে নিকুঞ্জের খালি প্লট দখল করার জন্য মিরপুর পল্লবী এলাকায় বাসা ভাড়া নেয়। সেই বাসায় সরকারি জাল স্ট্যাম্প তৈরি, ওকালত নামা, জমির দলিলসহ নানান ধরণের জালিয়াতি ও বাটপারির কেন্দ্র বানিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ভয়াবহ এই প্রতারককে আইনের আওতায় আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর গুলশান জোনের কয়েকজন কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে নানান অপকর্মের অভিযোগ আছে প্রতারক আকরামের বিরুদ্ধে। সেই সময় পূর্বাচল সেনাক্যাম্পে চাঁদাবাজির অভিযোগে করা হয়েছে আকরাম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর সেনা ক্যাম্প থেকে ডাকা হতে পারে, এমন খবর পেয়ে আকরাম ও তার সহযোগীরা গা ঢাকা দিয়েছিলো। এরপর মাঠ পর্যায়ে সেনাবাহিনীর তৎপরতা কমে গেলে আবারও তার অপকর্ম ও প্রতারণা শুরু করেছে খিলক্ষেত নিকুঞ্জ এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নি:সন্তান নারীর ওয়ারিশ দাবি করে খিলক্ষেতে জমি দখলের ভয়ংকর এক প্রতারণা শুরু করেছে আকরাম হোসেন। মূল্যবান সম্পত্তি গ্রাস করতে পদে পদে জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া এই চক্রের অন্য সদস্যরা হলেন- মোহাম্মদ আলী, আকরাম হোসেন, জ্যাকি, রকি ও আনোয়ারা বেগমসহ আরও অনেকে। ভূয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে, অন্যের সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়াই এই চক্রের মূল কাজ।
অভিযোগে আরও জানা গেছে, রাজধানীর জোয়ার সাহারা মৌজার নিকুঞ্জ ২ এর বিআরটিসি ডিপোর পিছনে ১ নম্বর রোডের ২১/সি, ডি ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় ৬ কাঠা আয়তনের জোড়া প্লট দুটি ২০১৯ সালে রাতের আঁধারে প্রতারক আকরাম হোসেন ও তার জালিয়াত চক্রের সদস্যরাদখল করে। পরে ২০২১ সালে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ থেকে প্রকৃত প্লট মালিক সম্মানিত ৫ জন বিচারপতির পক্ষ থেকে রায় পান। তারপর প্রকৃত মালিকের দখলেই ছিলো ওই সম্পত্তি। এরপর এক বিঘা আয়তনের ওই প্লট দুটি ২০২৪ এর ৫ আগষ্টের পর রাতের আধারে আবারও দখলের চেষ্টা চালায় প্রতারক আকরাম হোসেন ওরফে জ্যাকি খান ও তার সহযোগীরা।
নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ২০৬৩ দাগের ওই জমি সি এস রেকর্ডে মালিক ছিলেন কদম আলী। তার মৃত্যুর পর পৈতৃক ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হন তার দুই পুত্র চেরাগ আলী ও ওমেদ আলী। ১৯২৭ সালের ৪ এপ্রিল ১৪৫৮ নম্বর সাফ কবলা দলিল মূলে হরিচরণ দেবনাথ এর কাছে ২০৬৩ দাগে ৪.৯৮ একর এবং ২১০৫/২১৩৫ দাগের ০.৭৩ একর মোট ৫.৭১ একর জমি বিক্রয় করে দেন চেরাগ আলী ও ওমেদ আলী। নিঃস্বত্তবান হন। অবশিষ্ট জমি তাদের থেকে যায়।
পরবর্তীতে ১৩/০১/১৯৩৮ সালে হরিচরণের ৪ পুত্রঃ শ্যামকান্ত, মহেন্দ্র চন্দ্র, হরেন্দ্র চন্দ্র ও শ্রী দেবেন্দ্র চন্দ্রের কাছ থেকে ১৪৫ নং সাফ কবলা দলিল মূলে দুই দাগে মোট ৫.৭১ একর জমি ক্রয় করেন শ্রিমতি জবেদা খাতুন। পরে ১৩ মাস ভোগ দখল এ থাকার পর ১৩/০২/১৯৩৯ সালে ৬৭২ নং সাফ কবলা দলিল দ্বারা সৈয়দা মঞ্জুরা খানম পতি- দেওয়ান মোহাম্মদ ফজলুল হক এর নিকট-২০৬৩ দাগে যতটুক জমি ছিলো তার সম্পূর্ণটুকু অর্থাৎ ৪∙৯৮ একর এবং ২১০৫/২১৩৫ দাগের ০.৭৩ একর মোট ৫.৭১ একর জমি পুরোটাই বিক্রি করে দিয়ে শ্রীমতি জবেদা খাতুন পতি মৃত হযরত আলী নিঃস্বত্তবান হন।
হঠাৎ করে প্রায় ৬০ (ষাট) বছর পর অর্থাৎ শ্রীমতি জবেদা খাতুন তার জমি বিক্রি করে দেয়ার প্রায় ৬০ বছর পর বিমাতা নিঃসন্তান শ্রীমতি জবেদা খাতুন এর তথ্য গোপন এবং জালিয়াতি কাজ করে মেয়ের পরিচয় দিয়ে সুরমালা ও রতন মালা নিজেদের মালিক দাবি করে। আবার সেই জমি-জমা দেখাশুনা, রক্ষণাবেক্ষন
এর জন্য এই জাল-জালিয়াতি চক্রের মূল হোতা তৎকালীন আওয়ামী লীগের কথিত মুক্তিযোদ্ধা খাজা আব্দুর রহমানকে ১০/০৬/১৯৯৮ইং সালে ৮৪০৬ নং দলিল মূলে আম মোক্তার নিয়োগ করে। ১৯৯৮ সালের ১০ জুন থেকেই এই চক্রের জালিয়াতি শুরু হয়।
জালিয়াতি চক্র তথ্য গোপন করে আগে পাওয়ার অব এ্যাটর্নী দলিল করেছেন অর্থাৎ ১০/০৬/১৯৯৮ সালে আর তারা ২০০১ সালে ওয়ারিশ সনদ নেয়। অর্থাৎ ১৭/১০/২০০১ইং সালে দক্ষিনখান আদর্শ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওয়ারিশন সনদপত্র তুলেন। সেখানে তারা দেখায় যে শ্রীমতি জবেদা খাতুন মৃত্যুকালে ১ ছেলে আব্দুল মান্নান এবং ৩ কন্যা সুরমালা, রতনমালা ও কাঞ্চনমালা এদের ওয়ারিশ রেখে মারা যান।

আবার অন্যদিকে শ্রীমতি জবেদা খাতুন এর ছেলের পরিচয় দেওয়া আব্দুল মান্নান তার মৃত্যু কালে ৩ জন ওয়ারিশ রেখে যান যথাঃ দুই ছেলে দারগা আলী, আব্দুল আওয়াল ও এক স্ত্রী আম্বিয়া বিবি। এই দারগা তালী গং তাদের কথিত ২.৫৭ একর জমির রক্ষনা-বেক্ষন ও দেখাশুনার জন্য আবু বক্কর সিদ্দিক কে আম মোক্তার নিয়োগ করেন। অর্থাৎ জোবেদা খাতুন এর ছেলে-মেয়েরা পাওয়ার দেন খাজা আব্দুর রহমান কে, খাজা আব্দুর রহমান ০১/১১/২০০০ ইং সালে ১৪২৮৮৮ নং আম-মোক্তার দলিল মূলে পাওয়ার দেন জিল্লুর রহমান এবং আফতাব উদ্দিনকে। পরে আবার জিল্লুর রহমান গং ০৮/০৫/২০০২ ইং তারিখে নোটারী পাবলিক করে পাওয়ার দেন আবু বক্কর সিদ্দিককে। সেখান থেকে আবু বক্কর সিদ্দিকের জালিয়াতি মামলা মোকদ্দমা শুরু।
পরে আবু বক্কর সিদ্দিক নিজে বাদী হয়ে সিনিয়র সহকারী জজ ২য় আদালতে দোওয়ানী মামলা ২৮৮/২০০৫ নামে বাটোয়ারা মামলা করেন।
এই খানে তারা সব নিজেরা নিজেরাই বাদী/বিবাদী সেজে আদালতে তথ্য গোপন করে আদালতকে বিভ্রান্ত করে এই মামলা সাজায়।




