আসাদুজ্জামান খান কামালের এত টাকা! কাপড় ব্যবসায়ীর কাছে ধনঞ্জয়ের অর্থ

0
511

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ১২ কোটি ১১ লাখ ৯৪ হাজার ১৮০ টাকা থাকা ৯টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে। তবে তার ক্যাশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব ভারতে পলাতক ধনঞ্জয় দাসের অর্থ এখনো জব্দ হয়নি। দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে- ধনঞ্জয় দাসের বেশির ভাগ অর্থ শাড়ি কাপড়ের ব্যবসার আড়ালে ভারতে পাচার করা হয়েছে। মোটা অংকের অর্থ ধনঞ্জয় দাস, তার স্ত্রী শ্রাবণী সূত্রধর জলির কাপড় ব্যবসায়ীর সহযোগী আঁখি ভদ্রের কাছে রয়েছে বলে দুদক প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানতে পেরেছে। সে বিষয়ে শিগগিরই পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

জানা গেছে-দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭-এর বিধি ১৮ মোতাবেক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আবেদন করেছিল দুদক। তার আলোকেই অর্থ অবরুদ্ধ করার আদেশ দেয়া হয়।

জানা গেছে, কামালের অবরুদ্ধ হওয়া ব্যাংক হিসাবের মধ্যে জনতা ব্যাংকের একটি হিসাবে ৫ কোটি ৪৪ লাখ ৮২ হাজার ৫১২ টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংকের ৩টি হিসাবে ৩ কোটি ৬১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৯৪ টাকা, সীমান্ত ব্যাংকের একটি হিসাবে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৪৫ হাজার ৫৯৬ টাকা, সিটি ব্যাংকর ৩টি হিসাবে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৫২ হাজার ৪২৬ টাকা ও সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে ৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকা রয়েছে।

এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর আসাদুজ্জামান খান কামাল, তার স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনা খান ও কন্যা সাফিয়া তাসনিম খানসহ ১০ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন একই আদালত। যদিও ভারতের কলকাতার একটি পার্কে দেখা গেছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও তার বিশ্বস্ত সহযোগী ধনঞ্জয় দাসকে।

দুদক সূত্রে প্রকাশ, আসামি আসাদুজ্জামান খান অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১৬ কোটি ৪১ লাখ ৫৭ হাজার ৫৭৪ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন ও দখলে রেখে এবং আটটি ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনকভাবে ৫৫ কোটি ৯২ লাখ ৪৪ হাজার ৪৩৬ টাকা লেনদেন করে মানিলন্ডারিং-এর সম্পৃক্ত অপরাধ দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ বা সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে তা রূপান্তর বা স্থানান্তর বা হস্তান্তর করেছেন। তিনি অবৈধ পন্থায় অর্জিত সম্পদ অন্যত্র বিক্রয়/হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার প্রচেষ্টায় রয়েছেন। এ কারণে তার নামে নয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।
আবেদনে আরও বলা হয়, তার ব্যাংক হিসাবসমূহ অবরুদ্ধ করা না গেলে বিচারকালে তা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে না। এতে রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এর আগে গত ১লা সেপ্টেম্বর আসাদুজ্জামান খান কামাল, তার স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনা খান ও কন্যা সাফিয়া তাসনিম খানসহ ১০ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।

‌এদিকে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের লাইসেন্স করা পিস্তল পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে তেজগাঁও থানা-পুলিশ। বুধবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর মনিপুরী এলাকা থেকে ওই পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

এর আগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের ছেলে শাফি মুদ্দাসির খান জ্যোতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

কামালের সহযোগী ধনঞ্জয় দাসের সহযোগীরা ঢাকায় বহাল

তারকা নারী সাংবাদিকের সঙ্গে রয়েছে ধনঞ্জয় কুমার দাসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। ধনঞ্জয়ের স্ত্রী শ্রাবণী সূত্রধর জলিকে এটিএন নিউজে সংবাদ পাঠিকা হিসেবে চাকরি দিয়েছিলেন ওই নারী সাংবাদিক। কাওরানবাজার এলাকায় তারা বর্ণাঢ্য আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পূজা পালন করতেন। সেখানে উপস্থিত হতেন ধনঞ্জয় কুমার দাসসহ সিন্ডিকেটের অনেকেই। বর্তমানে তারা কেউ ওই টেলিভিশনে কর্মরত নেই। স্বামীর বদৌলতে অত্যন্ত বিলাসী জীবনযাপন করেন শ্রাবণী সূত্রধর জলি। প্রায়ই ঘুরে বেড়ান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। বনানীর ১৩ নম্বর সড়কে ‘ত্রিভ’ নামে একটি ফ্যাশন হাউজের মালিক শ্রাবণী। তাদের কাপড় ব্যবসার সহযোগী হিসেবে আছে ধনঞ্জয় কুমার দাসের একজন আলোচিত বান্দবীর স্বামী রণদা প্রসাদ দাস। অনিয়ম দুর্নীতির কারণে মোবাইল ফোন কোম্পানী থেকে চাকরী যাওয়ার পর এখন একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত আছেন তিনি। ব্যসায়ীক সহযোগী হিসেবে আছেন জাল সার্টিফিকেট দিয়ে সালমান এফ রহমানের টিভিতে চাকরী নিয়ে ধরা খাওয়া আঁখি ভদ্র। ভারত থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে কাপড় এনে বিক্রি করা হয় অনলাইনে।

ধনঞ্জয় কুমার দাসের এসব অপকর্মের গোয়েন্দা প্রতিবেদন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রেরণ করা হলে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল তা ধামাচাপা দিয়ে রাখেন। এই আশকারা পেয়ে আরও বিপুল উদ্যোমে দুর্নীতি অনিয়মে জড়ানস ধনঞ্জয় কুমার দাস। জানা গেছে-সূত্রাপুর, নিকেতনসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসা ক্রয় করেছেন ধনঞ্জয়। ধনঞ্জয় তার প্রভাব খাটিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্টেনোগ্রাফার হিসেবে চাকরি দিয়েছেন শ্যালিকা লাবণী সূত্রধরকে।

জানা গেছে, একাধিক বাড়ি, বিলাসবহুল গাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক ধনঞ্জয় কুমার দাস। ছেলে সৌভিক দাস জয়কে লেখাপড়া করাচ্ছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মালয়েশিয়াতে তার বিপুল সম্পত্তি রয়েছে বলে জানা যায়।

সরকারের পতনের পর ভারতের কলকাতায় পালিয়ে যান ধনঞ্জয় কুমার দাস। তার স্ত্রীও আছেন সেখানে। তবে ঢাকায় অবস্থান করা তার সহযোগী ও কাপড় ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকারের একটি সূত্র।